Wednesday, July 15, 2026

এআই বিজ্ঞাপনে বিতর্কে অ্যানথ্রপিক, ‘ভয়ের বার্তা’ নিয়ে সমালোচনার মুখে ক্লড নির্মাতা


প্রতীকী ছবিঃ অ্যানথ্রপিক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের নতুন বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। তবে এবার আলোচনার কারণ প্রশংসা নয়, বরং বিজ্ঞাপনের অস্বস্তিকর দৃশ্য ও হতাশাবাদী বার্তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

‘There’s hope in hard questions’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনটিতে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, এর ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অনেক দর্শকের মতে, বিজ্ঞাপনটির উপস্থাপন পদ্ধতি অতিরিক্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং উদ্বেগ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপনটি শুরু হয় একটি জ্বলন্ত বাড়ির দৃশ্য দিয়ে। এরপর একের পর এক স্থিরচিত্রে দেখানো হয় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির নজরদারির মধ্যে থাকা মানুষ, রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা গৃহহীন ব্যক্তি, সারি সারি কবর এবং খনিতে শ্রমিকদের কাজ করার দৃশ্য।

এর সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় বিভিন্ন মানুষের প্রশ্ন—‘এআইকে কি বিশ্বাস করা যায়?’ কিংবা ‘প্রয়োজন হলে কে এই প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরবে?’ এসব প্রশ্নের মাধ্যমে অ্যানথ্রপিক এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে দর্শকদের ভাবতে উৎসাহিত করতে চেয়েছে।

তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা। অনেক প্রযুক্তিবিদ ও দর্শক মনে করছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতনতা তৈরির বদলে বিজ্ঞাপনটি অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

অ্যানথ্রপিক দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নৈতিক ও দায়িত্বশীল এআই উন্নয়নের পক্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য এআই কোম্পানির তুলনায় নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে।

তবে নতুন বিজ্ঞাপনটির সমালোচনায় সরব হয়েছেন অনেকেই। অ্যানথ্রপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক বিজ্ঞাপন।

প্রযুক্তি অঙ্গনের কয়েকজন ব্যবহারকারীও বিজ্ঞাপনের দৃশ্য নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে কবরস্থানের একটি দৃশ্য নিয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে। অনেকের মতে, এআই নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা দিতে গিয়ে এমন প্রতীক ব্যবহার বিজ্ঞাপনটিকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, অ্যানথ্রপিক এখানে একটি পুরোনো বিপণন কৌশল ব্যবহার করেছে—নিজেদের শিল্পের সম্ভাব্য ক্ষতির দিক তুলে ধরে নিজেদেরকে দায়িত্বশীল বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা। তবে এবার সেই কৌশল উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

এর আগে অবশ্য অ্যানথ্রপিকের বিজ্ঞাপন ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপার বোল চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওপেনএআইকে ইঙ্গিত করে কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল। সেগুলো প্রযুক্তি মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আস্থা ও উদ্বেগ—দুই ধরনের অনুভূতিই রয়েছে। তাই এই খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিজ্ঞাপনের ভাষা ও চিত্র ব্যবহারে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ প্রচারণা সেই ভারসাম্যের প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন