Monday, June 15, 2026

শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত, বাজেট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি


ছবিঃ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণির স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, বাজেটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও উৎপাদনমুখী জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি স্পষ্ট।

রোববার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আলোচনা থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়েও বাজেটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বড় আকারের বাজেট ঘাটতির চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপর এসে পড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিরও সমালোচনা করেন সাইফুল হক। তার দাবি, চুক্তির কিছু শর্ত দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের চার মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক করতে হলে সীমান্তে সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবসান জরুরি। পাশাপাশি সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। পরে দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে একটি শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন