Tuesday, August 11, 2026

আরও ৪২ শীর্ষ ঋণখেলাপির পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা


ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দেশের বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিদের বিদেশে পাচার করা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। প্রথম দফায় অগ্রাধিকার পাওয়া ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা গোপন সম্পদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে আটটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ অন্তত ১২টি দেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করবে।

রোববার (৯ আগস্ট) এ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেন।

সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে ‘নো উইন, নো পে’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংকগুলোকে কোনো অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে বিদেশে সম্পদের সন্ধান করবে। সম্পদ উদ্ধার হলে চুক্তি অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া অর্থের একটি অংশ তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য নির্ধারণে কাজ করছে।

তিনি জানান, বিদেশে কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রথমে সেটি ফ্রিজ বা জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের অনুমোদন নিয়ে সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

তার মতে, বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয় আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয় দুটি আইনগতভাবে আলাদা প্রক্রিয়া। কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ না করলে ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী সেটি খেলাপি ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর প্রচলিত ব্যাংকিং ও আইনি প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে তদন্তে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সম্পদ শনাক্ত, জব্দ এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে দুটি প্রক্রিয়ার শেষ লক্ষ্য একই ব্যাংকের অনাদায়ী অর্থ উদ্ধার এবং বিদেশে পাচার হয়ে থাকলে তা দেশে ফিরিয়ে আনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কিংবা ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, সেসব ঋণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শীর্ষ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের ব্যাংক লুট, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তাদের দেশে-বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এবার দ্বিতীয় দফায় ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাদের বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়ায় সেগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ সফল হলে ব্যাংক খাতের বড় অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ আদায়ের পাশাপাশি পাচার করা অর্থও দেশে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন