Sunday, August 9, 2026

জরুরি খরচে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ডিজিটাল ঋণের উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

জরুরি সময়ে মোবাইল রিচার্জ, গ্যাস-বিদ্যুৎ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধে গ্রাহকদের আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন ধরনের ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সেবামূল্য বা সার্ভিস ফি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। নেওয়া ঋণের পুরো অর্থ সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং জরুরি সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খসড়া নীতিমালাটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অংশীজনদের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সার্ভিস ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ টাকা এবং ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ১০ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে।

একইভাবে ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা, ১ হাজার ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা, ২ হাজার ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা এবং ৩ হাজার ১ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সার্ভিস ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—অনুমোদিত সার্ভিস ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ সুদ, জরিমানা, প্রসেসিং ফি কিংবা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপের সুযোগ থাকবে না।

এমনকি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৩০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ঋণের টাকা পরিশোধ করলে তার কাছ থেকে আগাম পরিশোধের জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়া যাবে না।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ঋণ গ্রহণ থেকে শুরু করে পরিশোধ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত ঋণের মতো কাগজপত্রে স্বাক্ষর বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়ার পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাই করা হবে। এরপর নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে দ্রুত ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জরুরি সময়ে স্বল্প পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি সহজলভ্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি হলে এই ডিজিটাল ঋণসেবার বাস্তব কাঠামো ও কার্যকর হওয়ার সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন