- ০৬ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ০.৫৯ শতাংশ, যা এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে এ সময়ে বাংলাদেশের চেয়ে সামান্য ভালো অবস্থানে ছিল কম্বোডিয়া। দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ০.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় অর্থনীতির মুদ্রায় তুলনামূলক বেশি চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়নের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় রুপি। এক বছরে ডলারের বিপরীতে এর মূল্য কমেছে ৮.৯৪ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কার রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ৫.১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসোর ৩.৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ার ২.৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে চীনের ইউয়ান শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মূল্য বেড়েছে ৫.১৪ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তানি রুপির মানও ০.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পরামর্শ অনুযায়ী বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালুর পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডলার সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নীতিগত সমন্বয়ের ফলে টাকার ওপর চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২৪.৮৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভের এই উন্নতি স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করেছে এবং বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বেশিরভাগ সময় ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব বিনিময় হারে সীমিত ওঠানামার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩.৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগে ছিল ১২৩.৬৯ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারা ইতিবাচক থাকলে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বর্তমান নীতিগত ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও টাকার বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।