Thursday, August 6, 2026

ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট, ভোগান্তিতে ২ কোটি আমানতকারীঃ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান


ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের অনিয়ম ও ব্যাপক অর্থ আত্মসাতকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তার দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকিং খাতের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের কারণে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি আমানতকারী নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশের অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত ভাষায় যেগুলোকে খেলাপি ঋণ বলা হচ্ছে, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃতপক্ষে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার ভাষায়, এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর। বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, যা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

গভর্নর জানান, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে নির্দিষ্ট শর্তে ‘বুলেট পেমেন্ট’-এর মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন কার্যকর করে সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গভর্নরের আশা, প্রস্তাবিত দুটি আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে। এসব আইন কার্যকর হলে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্যে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে সারা দেশে ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে ২৮ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীকে নির্বাচন করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইনি সংস্কারের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন