Sunday, August 9, 2026

সৌদি আরামকোর জিজান স্থাপনায় আগুন, হামলার দাবি হুতিদের


ছবিঃ সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভোরে উপকূলীয় শহর জিজানের একটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /দাদো রুভিচ/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে দেশটির লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর জিজানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিজানের একটি আরামকো স্থাপনায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা ড্রোনের মাধ্যমে জিজানে আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, তাদের ড্রোন হামলা লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হেনেছে।

হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের সা’দা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমায় ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি বাহিনীর কার্যক্রমের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে রিয়াদের পক্ষ থেকে হুতিদের এই দাবি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জিজান সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় আরামকোর স্থাপনায় এর আগেও হামলার দাবি করেছে হুতিরা। গত মাসেও জিজানে আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা এবং দেশটির পশ্চিম উপকূলের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুর তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানোর দাবি করেছিল তারা।

আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার কারণে কোম্পানির কিছু স্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে দ্রুতই কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। হামলাগুলো কোম্পানির সামগ্রিক পরিচালন ও আর্থিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি বলেও জানান তিনি।

এদিকে এসব হামলার ঘটনায় ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হুতিদের সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দীর্ঘ সংঘাতে সৌদি আরবও জড়িত। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সমঝোতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদি আরবকে ঘিরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল হুতিরা। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়েও হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অঞ্চলটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রোববার পরবর্তী সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় আল-মোখা শহরে সৌদি বাহিনীর অবস্থান ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সৌদি বাহিনী এ দাবিরও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। গত শুক্রবার তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে রিয়াদ। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির তেল স্থাপনায় হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও দায়ী করে আসছে।

জিজানের আরামকো স্থাপনায় আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এটি হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন