Sunday, August 9, 2026

চীনের উপকূলে আঘাত হানছে টাইফুন ডলফিন, বাতিল ১,৬০০ ফ্লাইট


ছবিঃ ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টাইফুন ডলফিন উপকূলে আঘাত হানার মুখে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের হুয়াংকি উপকূলে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /সিএনএসফটো/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

প্রবল শক্তি নিয়ে চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে টাইফুন ডলফিন। রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি)। এরই মধ্যে দুর্যোগের আশঙ্কায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বিবেচনায় রোববার সকালে সর্বোচ্চ মাত্রার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে এনএমসি। ডলফিনের প্রভাবে পূর্বাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংহাইয়ের হংচিয়াও ও পুডং বিমানবন্দরে রোববার প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরেও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রায় ২৭০টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে আগেই মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। ঝেজিয়াংয়ের তাইঝৌ শহরে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে সাংহাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ফুজিয়ান প্রদেশেও শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে ২০০টির বেশি ফেরি রুটে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সাংহাই ছাড়াও উত্তর ফুজিয়ান, উত্তর-পূর্ব জিয়াংসি, মধ্য ও দক্ষিণ আনহুই এবং জিয়াংসুর বিস্তীর্ণ এলাকায় সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এনএমসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের উপকূলে পৌঁছানোর সময় ডলফিনের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার হতে পারে। পরে স্থলভাগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিনের প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানেও। শনিবার থেকে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চল, রাজধানী তাইপেসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এর ফলে কয়েক ডজন ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে সপ্তাহান্তে টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। সেখানে অন্তত সাতজন আহত হন এবং ৫০ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। রোববার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার প্রায় ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল বলে জানিয়েছে ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি।

চীনের পূর্ব উপকূলে ডলফিনের সম্ভাব্য আঘাতকে সামনে রেখে উদ্ধার ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি এবং ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন