- ১১ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঠাকুরগাঁও
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।
এমন ফলাফলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। কেন এসব প্রতিষ্ঠানে এমন বিপর্যয় হলো, এর পেছনে শিক্ষক সংকট, তদারকির ঘাটতি নাকি শিক্ষার মানের সমস্যা তা খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. শামারুহ মির্জা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন করে চেষ্টা করার আহ্বান জানান।
ডা. শামারুহ মির্জা বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রমের সুফল পেয়েছে। আর যারা এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের জন্যও সামনে আবার সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের গ্রেডের পাশাপাশি পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনাকে ‘শিউরে ওঠার মতো’ উল্লেখ করে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সমস্যার কারণ চিহ্নিত এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
এবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং পাঠদানের মান নিয়ে সমস্যা থাকলে তার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে পড়তে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদেরও মত, একটি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকিসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। তদারকি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন ফলাফল ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই শুধু ফলাফল প্রকাশের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।