- ০৯ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি দলের নেতারা বারবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনার জবাবে আগ্রাসী আচরণ করা হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মঞ্জু।
সভায় বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখার প্রথম দফা পড়ে শোনান এবি পার্টির চেয়ারম্যান। সেখানে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পথ থেকে সরে এসে রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হবিগঞ্জে ছাত্রদলের হামলায় কিশোর আলিফের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় জানালার কাচ ভাঙচুরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মঞ্জু। এসব ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সামান্য রাজনৈতিক সমালোচনার জবাবেও যারা কঠোর ও আগ্রাসী অবস্থান নেন, তাদের দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্মরণ করে মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। তার দাবি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারত।
‘রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সুবহানী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা ইজহারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তারা।