- ২১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটির ভেতরে এ কমিটিতে না যাওয়ার পক্ষে জোরালো মত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দলটির নেতাদের আশঙ্কা, সংশোধন কমিটিতে যোগ দিলে সরকার নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে যেতে পারে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ করছে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
গত ২৯ এপ্রিল সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলো সংবিধান “সংশোধন” নয়, বরং “সংস্কার” দাবি করে আসছে। তাদের বক্তব্য, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে সরকার সংশোধন কমিটির উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী শিবিরে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, সংসদে সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সংশোধন কমিটিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বিরোধী দলের মতামত কার্যকরভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় আলোচনার পরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মনে করেন, প্রস্তাবিত সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, বিরোধী দল নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, সংশোধনের পক্ষে নয়। তাই সরকারের প্রস্তাবিত কাঠামোর সঙ্গে তাদের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
তবে দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। কারণ, “সংস্কার” ও “সংশোধন”—দুই ধারণার মধ্যে রাজনৈতিক ও নীতিগত পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের একটি বড় অংশ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সংস্কার ইস্যুতে সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিরোধী দল এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চায় না।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেবে—সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে, নাকি বাইরে থেকেই নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে।