Wednesday, May 20, 2026

শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ


ছবিঃ ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক্‌-বাজেট সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বর্তমান খণ্ডিত শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্বল শিখনফল, কম বেতনের শিক্ষক এবং নাজুক অবকাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই উচ্চমধ্যম আয়ের কিংবা উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে না বলে মত দিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদেরা। তাঁরা বলেছেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের একটি বাস্তবভিত্তিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর আবদুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোর মান উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব, পাঠাগার ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত প্রাথমিক শিক্ষায়।

প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে বহু ধারায় বিভক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে সমন্বয়হীনতা পুরো ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। তাই ধাপে ধাপে পুনর্গঠন এবং পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় সংস্কার কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সংস্কারের জন্য আটটি মূল নীতির কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম জাতীয় মানের আওতায় আনা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।

সংলাপে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর উপাচার্য মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে অরাজকতা চলছে। শিক্ষানীতিকে একটি সুসংহত কাঠামোর মধ্যে আনতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্য প্রয়োজন।

জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ শিক্ষা খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, বাজেটে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে বাহ্যিক অবকাঠামোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় ও অনিয়মের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এবি পার্টি-র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে দেশে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ানো হচ্ছে। বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। তিনি শিক্ষা খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপটি পরিচালনা করেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব খ ম কবিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন