Wednesday, May 20, 2026

ত্রাণ নৌবহর আটক নিয়ে বিতর্ক, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ


ছবিঃ ২০২৬ সালের ১৯শে মে, মধ্য গাজা উপত্যকার নুসেইরাতে, ফিলিস্তিনি শিশুরা একটি ম্যুরালের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে সমুদ্রপথে গাজায় বেসামরিক নেতৃত্বাধীন মানবিক সহায়তা মিশন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-তে অংশগ্রহণকারী জাহাজগুলোকে ইসরায়েলের আটক করার দৃশ্য চিত্রিত করা হয়েছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি নৌবহর থেকে আটক হওয়া অন্তত ৮৭ জন কর্মী অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরের শেষ জাহাজটিও আটক করার পর এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

আয়োজক সংগঠন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা তাদের “অবৈধ আটক” এর প্রতিবাদে এবং গাজায় আটক থাকা হাজারো ফিলিস্তিনির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন করছেন।

সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌবহরের একটি জাহাজ ‘লিনা আল-নাবুলসি’ থেকে ছয়জনকে আটক করার মাধ্যমে অভিযানটি সম্পন্ন হয়। গত সপ্তাহে তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি জাহাজ গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙা।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌবহরের অংশগ্রহণকারীদের আটক করে ইসরায়েলে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এটিকে “প্রচারমূলক উদ্যোগ” বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, আটক হওয়া প্রায় চার শতাধিক ত্রাণকর্মীকে নিরাপদে ইসরায়েলে আনা হচ্ছে, যেখানে তারা কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আয়োজকদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালিয়ে নৌযানগুলো আটক করে এবং কিছু ক্ষেত্রে রাবার বুলেট ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নয়জন নাগরিকও আটক হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত মুক্তির জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আয়রিশ, তুরস্ক, স্পেন, জর্ডান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, লিবিয়া ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক, স্পেন, জর্ডান, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশ এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চারজন কর্মীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করেছে, তারা হামাসকে সহায়তা করছে—যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা উপকূলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে ঘিরে এ ধরনের আটক ও অনশন পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক নৌবহর আটক নিয়ে বৈশ্বিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন