- ২০ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালালে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। বুধবার তেহরান থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড এ ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান শুধু আঞ্চলিক লক্ষ্য নয়—বরং এর বাইরেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন বোমা হামলা শুরু করার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলাম।” তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সময় দিতে তিনি সাময়িকভাবে সামরিক পদক্ষেপ থামিয়ে রাখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। এপ্রিলের শেষ দিকে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে শান্তি আলোচনাও কার্যত থমকে আছে। যদিও উভয় পক্ষই আলোচনার কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে অগ্রগতি খুবই সীমিত।
এদিকে ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো আগের দাবিগুলিই পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে—যা আগেও ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান। তবে এবার তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রতিক্রিয়া শুধু আঞ্চলিক সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে বিভিন্ন শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে। যদিও কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ আবারও ওই রুট ব্যবহার শুরু করেছে, তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় ট্রাফিক এখনো অনেক কম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম বারবার ওঠানামা করছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক চাপের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও একটি অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।