- ২০ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কোনো ‘বিদেশি শক্তি’ নয়, বরং দেশটির ২ কোটি ৩০ লাখ নাগরিকই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে। ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
লাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ১৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, বাইরের কোনো শক্তিকে তাইওয়ানের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করতে দেওয়া হবে না।
তবে একই সঙ্গে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট লাই জানান, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে “সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে” এবং সুশৃঙ্খল আলোচনার মাধ্যমে।
লাই দাবি করেন, তাইওয়ান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্বশীল সদস্য এবং কোনোভাবেই এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পক্ষ নয়। তাঁর এই মন্তব্যকে চীনের অবস্থানের পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, তিনি “বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাভাবনা” উসকে দিচ্ছেন এবং তাইওয়ান–চীন সম্পর্ককে “গণতন্ত্র বনাম কর্তৃত্ববাদ” হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
চীনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, লাই জনগণের কল্যাণের চেয়ে বিদেশি শক্তির স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এবং বাইরের সহায়তার মাধ্যমে স্বাধীনতার ধারণাকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
লাইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাইওয়ান–চীন সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে চীন পাঁচ দফা সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যা দ্বীপটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় একটি কৌশলগত হাতিয়ার হতে পারে।
এছাড়া তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও লাইকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট কাটছাঁট এবং রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পার্লামেন্টে তার অবস্থান দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট লাই ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে সরকার নতুন উদ্যোগ নেবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে কাজ অব্যাহত রাখবে।
সব মিলিয়ে তাইওয়ান ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যেখানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।