- ২০ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুষ্টিয়া
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক সহকারী অধ্যাপকের পিএইচডি থিসিস মূল্যায়নকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসারে যেখানে একটি থিসিস মূল্যায়নে দীর্ঘ সময় লাগে, সেখানে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা পড়ায় বিষয়টিকে “অস্বাভাবিক” বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের পিএইচডি থিসিস জমা দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরীক্ষকের মূল্যায়ন রিপোর্ট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পৌঁছে যায়। এমনকি ভাইবা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তার ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের খসড়া এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে পিএইচডি গবেষক হিসেবে তিনি তার থিসিস জমা দেন। পরবর্তীতে মাত্র দুই দিনের মাথায় পরীক্ষকের মূল্যায়ন রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়। সাধারণত ডাকযোগে থিসিস পাঠানো, তা পড়া, মূল্যায়ন সম্পন্ন করা এবং পুনরায় রিপোর্ট পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরীক্ষককে মূল্যায়নের জন্য প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আড়াই শতাধিক পৃষ্ঠার একটি গবেষণাপত্র এত অল্প সময়ে কীভাবে মূল্যায়িত হলো? কেউ কেউ মনে করছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়নি অথবা থিসিস হাতে পাওয়ার আগেই রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এদিকে আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষকের রিপোর্ট জমা হওয়ার পর উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইবার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ভাইবা সম্পন্ন হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ডিগ্রির বিষয়টি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপিত হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ভাইবা অনুষ্ঠিত না হলেও গবেষকের ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টি ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের খসড়া এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে সেই সভা স্থগিত হয়।
অভিযোগের বিষয়ে পিএইচডি গবেষক ও সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন, থিসিস পাঠানো বা মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি দাবি করেন, দ্রুত রিপোর্ট জমা হওয়ার বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা বা প্রভাব ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, কাউন্সিলের কাজ সহজ করতে সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করার সুযোগ ছিল বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান পিকুল স্বীকার করেছেন যে, এত কম সময়ে একটি বড় থিসিস মূল্যায়িত হওয়া স্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ন্যূনতম ১৫ দিনের আগে কোনো মূল্যায়ন রিপোর্ট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পিএইচডি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।