- ২০ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রে একাধিক বানান ও ভাষাগত ভুল নিয়ে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত এ গুরুত্বপূর্ণ নথিতে অন্তত ২০টি বানান ও বাক্যগত অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠের সরকারি নথিতে এত সংখ্যক বানান ভুল থাকা হতাশাজনক এবং এটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা দ্রুত এসব ভুল সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।
প্রবেশপত্রে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি শব্দে ভুল বানান দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘নির্দেশাবলী’, ‘সময়সূচী’, ‘দেয়া’, ‘প্রবেশ পত্র’, ‘পরিচয় পত্র’, ‘পেন্সিল’, ‘বক্স’, ‘আইন শৃঙ্খলা’, ‘যন্ত সহকারে’, ‘মুখমন্ডল’, ‘সংরক্ষন’ ও ‘কোন’ ইত্যাদি। ভাষাবিদদের মতে, এসব শব্দের শুদ্ধ রূপ যথাক্রমে ‘নির্দেশাবলি’, ‘সময়সূচি’, ‘দেওয়া’, ‘প্রবেশপত্র’, ‘পরিচয়পত্র’, ‘পেনসিল’, ‘বাক্স’, ‘আইন-শৃঙ্খলা’, ‘যত্ন-সহকারে’, ‘মুখমণ্ডল’, ‘সংরক্ষণ’ ও ‘কোনো’ হওয়া উচিত।
এ ছাড়া একই নথিতে শব্দ ব্যবহারে অসামঞ্জস্যও লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও ‘পরীক্ষার্থী’ লেখা হলেও অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে ‘পরীক্ষার্থীগণ’। একইভাবে ‘প্রবেশপত্র’ ও ‘প্রবেশ পত্র’—দুই ধরনের বানান ব্যবহার করায় ভাষাগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বাক্যে অপ্রয়োজনীয় শব্দের পুনরাবৃত্তিও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল গাফ্ফার বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নথিতে এতগুলো বানান ভুল থাকা দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. হাসনাত কবীর বলেন, বাংলা বানানের ক্ষেত্রে আমাদের সামগ্রিক সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এত ভুল থাকা অনভিপ্রেত। তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতের প্রবেশপত্রে শুদ্ধ বানান নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খানও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসকে ভুলগুলো সংশোধনের জন্য জানানো হবে।