Tuesday, May 19, 2026

খাতা মূল্যায়নে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি ১০ মাসেও, ক্ষোভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে


ফাইল ছবিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রায় ১০ মাস পার হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আসবে এবং পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এখনো পদ্ধতিটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড ব্যবহার করা হবে। এতে পরীক্ষকরা শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে পারবেন না, ফলে মূল্যায়ন আরও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করা হয়।

তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কোনো বিভাগে এই ব্যবস্থা চালু হয়নি।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলবী বলেন, “কোডিং পদ্ধতি চালু না হওয়া সত্যিই হতাশাজনক। বর্তমান ব্যবস্থায় অবচেতন পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থেকে যায়, যা মেধার সঠিক মূল্যায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রযুক্তিগত বাধা দূর করে এটি চালু করা।”

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা তামিম বলেন, “এটি চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য কোডিং পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও আস্থা বাড়বে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. হাসনাত কবীর বলেন, “কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এখনো কোডিং পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত আছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, “সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। মার্কস ইনপুট ও রোল কনভার্সনসহ পুরো সিস্টেমে আপডেট দরকার, যা সময়সাপেক্ষ।” তিনি আরও জানান, সফটওয়্যার প্রোভাইডারের সঙ্গে চুক্তি ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নাম-রোলবিহীন খাতা মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। গত বছর ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’-এর ব্যানারে আন্দোলনও হয়, যেখানে এটি অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। শিক্ষার্থীদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন