- ১৯ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবটিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত্রুতা বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডুবাই থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবে শুধু যুদ্ধবিরতিই নয়, বরং লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে ইরান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রত্যাহার এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত আছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বা “অকার্যকর” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও তিনি ইরানের পূর্ববর্তী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার একটি “ভালো সুযোগ” তৈরি হতে পারে। তবে প্রয়োজনে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রগুলো বলছে, ইরান আংশিকভাবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছু নমনীয়তা দেখাতে পারে, তবে পুরো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি বা ছাড়ের বিষয় নিশ্চিত করেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাতে লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ড্রোন হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে, তবে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।