- ১৮ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্ভাব্য যুদ্ধের আগে ইরাকের পশ্চিম মরুভূমিতে দুটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকি কর্মকর্তারা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েল পরিচালিত দুটি গোপন ঘাঁটির অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। এতে একজন ইরাকি কর্মকর্তা ও এক সংসদ সদস্যের বরাত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ওই এলাকায় একটি অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু তথ্য জেনে রেখেই যুদ্ধ শুরুর আগে একটি ঘাঁটি কার্যকর করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী অবস্থান করত এবং আকাশপথে অভিযান পরিচালনার জন্য এটি একটি লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া সেখানে বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধারসহ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের শুরুর দিকে ইরাকি ইউনিটগুলো ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছে গেলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা ইরাক–সৌদি সীমান্তের কাছে ওই ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে জানায়, তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইরাকের যৌথ অপারেশন কমান্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “এই এলাকায় কোনো বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়ে কোনো চুক্তি বা অনুমতি নেই।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাক সরকার মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, তারা ওই অভিযানে জড়িত ছিল না। একই সঙ্গে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশও ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপনের দাবি অস্বীকার করেছে।
ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান বলেছে, বিষয়টি তারা ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করবে এবং ইসরায়েলকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে ইরাককে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।