- ১৮ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ না এলেও, দলের ভেতরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক চাপ, যাকে অনেক বিশ্লেষক “ধীরগতির অভ্যুত্থান” হিসেবে বর্ণনা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত স্টারমার ক্ষমতায় থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এই সময়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ক্ষতির পর দলের ভেতরে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেবেন কি না—তা নিয়ে দলে ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন।
লেবার পার্টিতে কোনো নেতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। পার্টির অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন ছাড়া আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু করা যায় না। এরপর পুরো দলের সদস্যদের ভোটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
এই নিয়মের কারণে অনেক সময় সংসদ সদস্যদের বড় অংশ অসন্তুষ্ট হলেও নেতৃত্ব টিকে যেতে পারে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি “কিং অব দ্য নর্থ” নামে পরিচিত। তিনি বর্তমানে পার্লামেন্টের বাইরে থাকলেও দলের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যায়, বার্নহ্যামের গ্রহণযোগ্যতা অন্য নেতাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যেখানে স্টারমারের জনপ্রিয়তা নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে লেবার পার্টির বড় ধরনের আসন হারানো দলীয় সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এতে করে দলের কিছু অংশ মনে করছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বার্নহ্যামকে পার্লামেন্টে ফিরিয়ে আনার আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে তিনি যদি সংসদে প্রবেশ করেন, তবে নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনো পরিস্থিতি অনিশ্চিত। কোনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হয়নি, এবং স্টারমারও এখনো পদত্যাগের কোনো ঘোষণা দেননি।
সব মিলিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে ক্ষমতার এই অদৃশ্য টানাপোড়েন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হতে পারে।