- ২০ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
চীনের ভেতরে গোপনে প্রায় দুই শতাধিক রুশ সামরিক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা নথির বরাতে বলা হচ্ছে, এসব প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন।
রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত একটি দ্বৈতভাষিক (চীনা–রুশ) চুক্তির ভিত্তিতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার সেনাদের চীন ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায়—বিশেষ করে বেইজিং ও নানজিং অঞ্চলে—প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, প্রশিক্ষণের মূল ফোকাস ছিল ড্রোন প্রযুক্তি, আকাশযুদ্ধ কৌশল, সাঁজোয়া যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার। একই সঙ্গে ড্রোন পরিচালনা ও যুদ্ধক্ষেত্রে তার ব্যবহার নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ ছিল, রাশিয়ার পাশাপাশি কয়েকশ চীনা সেনাকেও রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে এসব তথ্য নিয়ে চীন বা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকটকে ঘিরে বেইজিং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তি আলোচনাকে উৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করছে। তাদের মতে, কোনো পক্ষই যেন উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা না করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রুশ সেনাদের একটি অংশ পরবর্তীতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে, বিশেষ করে ক্রিমিয়া ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন অপারেশনে যুক্ত হন। তাদের মধ্যে কিছুজন প্রশিক্ষক পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন, যারা পরবর্তীতে নিজেদের ইউনিটে সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেন।
নথিতে আরও জানা যায়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ড্রোন পরিচালনা ছাড়াও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, আর্টিলারি সমন্বয়, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রুশ সেনারা ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ কৌশল শিখেছেন, যার মধ্যে ইলেকট্রনিক জ্যামিং ডিভাইস, নেট-ভিত্তিক ড্রোন আটকানোর প্রযুক্তি এবং সিমুলেটর ব্যবহার করে যুদ্ধ অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে ড্রোন এখন অন্যতম প্রধান অস্ত্র। দীর্ঘ দূরত্বে হামলা থেকে শুরু করে ফ্রন্টলাইনে নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের ধরণ পাল্টে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা রাশিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
তবে চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা সরাসরি কোনো সংঘাতে পক্ষ নেয়নি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান করছে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো চীন–রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে এটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং পশ্চিমা–চীন সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।