- ১৯ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক | ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি যাচাই করে অসত্য বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে দাবি করা হচ্ছিল, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় ঢাকা–৮ আসন শূন্য হয়ে গেছে। তবে বাস্তবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে আগেই শপথ নিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তিনিও শপথ গ্রহণ করেন। ওই দিন সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলোতে বলা হয়, “সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য হয়” কিংবা “৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলে আসন বাতিল হয়ে যায়।” এ ধরনের দাবি ঘিরে বিভিন্ন পোস্ট, ফটোকার্ড ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সংবিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু মির্জা আব্বাস ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ায় সেই বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং পরে উপনির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঢাকা–৮ আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারি কোনো সূত্র থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি।
জানা গেছে, গত ১১ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাঁর সংসদে অনুপস্থিতির সময়ও এখনো ৯০ দিন অতিক্রম করেনি। ফলে আসন শূন্য হওয়ার যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, যাচাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয়ে তথ্য প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।