Wednesday, May 20, 2026

নভেম্বরে শুরু হতে পারে ইউপি নির্বাচন, বিএনপির সামনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও সহিংসতার শঙ্কা


ফাইল ছবিঃ গত ১৬ মে কুমিল্লায় এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা কাটাতে এ নির্বাচন দিয়েই ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ভেতরে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী ও সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের পর ধাপে ধাপে পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় একই পদে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভক্তি, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঐক্য ধরে রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, ওই সভায় তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনিক প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা নয়, মাঠে কাজ করেই জনগণের সমর্থন আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতাদের বিশেষ দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটি দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়েরও বড় পরীক্ষা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে যে শিথিলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৯ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

সরকার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগ থেকে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও মাঠপর্যায়ের শক্তিরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন