- ২০ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বান্দরবান
সাত উপজেলা নিয়ে গঠিত বান্দরবান জেলায় একমাত্র দেওয়ানি আদালতে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সিনিয়র সিভিল জজ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিচারিক কার্যক্রম। এতে হাজারো বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় মাস আগে সিনিয়র সিভিল জজ মোহাম্মদ দাউদ হাসান পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে শূন্য পদে নতুন কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় আইনজীবীদের অভিযোগ, বিচারক না থাকায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে জরুরি শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ, তদন্ত ও আপিল নিষ্পত্তিসহ প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ফলে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
দেওয়ানি আইনজীবী রাজীব চন্দ্র ধর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র সিভিল জজের পদ শূন্য থাকায় বিচারব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও নিজ আদালতের কাজের চাপ সামলে সিভিল মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতি-এর সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ দেওয়ানি মামলা এই আদালতেই বিচারাধীন। এছাড়া গ্রাম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও এখানেই নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু বিচারক না থাকায় কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, বিচারক সংকটের কারণে ভূমি বিরোধ, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “সংবিধানে নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি তার পরিপন্থি। বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একজন যোগ্য সিনিয়র সিভিল জজ পদায়ন জরুরি।”
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিচারক নিয়োগ না হলে জেলার দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।