- ২০ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এর বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ এবং আনোয়ার হাকিম।
এছাড়া জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন ও আব্দুল করিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম ও শাহ আলমকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল এবং মিনহাজ উদ্দিনকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আলামত পর্যালোচনার পর বিচারক এ রায় দেন। একই ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খুরশিদ আলম চৌধুরী বলেন, “আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে এ রায় দিয়েছেন।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দুই দিন পর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত এলাকায় নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। নির্জনের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।