Thursday, May 21, 2026

ইসরায়েল লবির অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক


ছবিঃ ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এআইপিএসি নীতি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ব্রায়ান স্নাইডার/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রো-ইসরায়েল লবি গ্রুপ এআইপ্যাক (AIPAC)-এর বিরুদ্ধে। আল জাজিরার অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি কংগ্রেস নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের অর্থায়ন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রচারিত একটি ৩০ সেকেন্ডের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বুশরা আমিওয়ালাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও সেটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ ছিল না। প্রার্থী নিজেও পরে ওই বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে আলাদা ঘোষণা করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিজ্ঞাপনটির অর্থায়ন এসেছে এমন একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) থেকে, যা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রো-ইসরায়েল লবি এআইপ্যাকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগ অনুযায়ী, এআইপ্যাক নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে এমন প্রার্থীদের পরাজিত করতে চায়, যারা ইসরায়েল নীতির সমালোচক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলিনয়ের ক্ষেত্রে অর্থায়ন একাধিক পিএসির স্তর পেরিয়ে গেছে—যেখানে একটি সংগঠন অন্য সংগঠনে অর্থ স্থানান্তর করে প্রকৃত উৎস আড়াল করা হয়েছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন। এই ধরনের কাঠামোকে তারা “শেল পিএসি” বা আড়ালভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করছেন।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে একটি পিএসি ইলিনয়ের নির্বাচনী গ্রুপে অর্থ দেয়, এরপর আরও বড় একটি রাজনৈতিক তহবিল থেকে সেই অর্থ এসেছে, যার সঙ্গে এআইপ্যাক-সমর্থিত নেটওয়ার্কের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থায় বড় অঙ্কের অর্থায়ন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দাতার তথ্য ভোটের পর প্রকাশিত হয়। কিছু অলাভজনক সংগঠন রয়েছে যারা নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার করলেও তাদের দাতাদের তথ্য প্রকাশে বাধ্য নয়।

সমালোচকদের মতে, এই ফাঁকফোকর ব্যবহার করেই বড় লবি সংগঠনগুলো পরোক্ষভাবে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী নীতির প্রতি সমর্থন কিছুটা কমেছে, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে কেন্দ্র করে জনমত বিভাজিত হয়েছে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে।

এআইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের নির্বাচনী তহবিলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের মুখে রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সংগঠনটি এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেয় যারা তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সঙ্গে একমত।

তবে সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও ভোটারের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন