- ২১ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হলেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করার আলোচনা চলছে।
ইসরায়েলের ডানপন্থী টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-এর উপস্থাপক শিমন রিকলিন সম্প্রতি একটি টকশোতে ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করেন, যা পরে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়ে। বিতর্কের পর তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ছিল অনুমানভিত্তিক।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা কঠিন হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পাল্টা প্রতিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ইরানও আঞ্চলিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ জোরদার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করেছে। বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতির সমালোচনা করে বলছে, ইরান ইস্যুতে তার অবস্থান দেশকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলে ইরান ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান, ইসরায়েলের রাজনৈতিক চাপ এবং ইরানের পাল্টা কৌশল—এই তিন পক্ষের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।