- ২১ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে। এই সম্ভাব্য যোগাযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে, কারণ এটি ঘটলে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে যাবে এবং চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।
বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি লাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত আছেন। ওয়াশিংটন একই সময় তাইওয়ানের জন্য একটি বড় আকারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বেইজিং সফরের পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পের এমন মন্তব্য, যেখানে তিনি তাইওয়ান নেতার সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত দেন।
১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন তাইওয়ান থেকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি সরিয়ে চীনের (বেইজিং) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। সেই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের কথাও নাকচ করেনি।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা “তাইওয়ান প্রণালীতে বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে” প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তারা চীনকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রেসিডেন্ট লাইয়ের দপ্তর জানায়, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা বিষয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।” তিনি আরও জানান, বেইজিং সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার “ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং তাইওয়ান ইস্যুও আলোচনায় থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ পর্যালোচনা করছে, যা তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে ট্রাম্প-লাই সম্ভাব্য আলোচনার খবর নতুন করে বেইজিং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।