- ২১ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে। সম্মেলনে ৭৫টিরও বেশি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ—অর্থাৎ প্রতি আট জনে একজন—কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। সংস্থাটি বলছে, এই সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, আর নারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত কম। বিশ্বব্যাপী গড় সরকারি স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছে ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচও এবং মানসিক রোগ নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও অবস্থা।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—মুড ডিসঅর্ডার যেমন ডিপ্রেশন ও বাইপোলার ডিজঅর্ডার; উদ্বেগজনিত রোগ যেমন জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ও প্যানিক ডিসঅর্ডার; সাইকোটিক ডিজঅর্ডার যেমন স্কিজোফ্রেনিয়া; এবং ট্রমা-সম্পর্কিত সমস্যা যেমন পিটিএসডি।
এছাড়া খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা, ব্যক্তিত্বজনিত জটিলতা, ওসিডি, মাদকাসক্তি এবং বিচ্ছিন্নতাজনিত রোগও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
ডব্লিউএইচও বলছে, মানসিক রোগ সব আয়-স্তরের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে চিকিৎসা সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। মাথাপিছু ব্যয় অনেক দেশেই কয়েক সেন্টের বেশি নয়, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশে এটি অনেক গুণ বেশি।
আঞ্চলিক হিসাব অনুযায়ী আমেরিকা, ইউরোপ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানসিক রোগের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে, তবে আফ্রিকা অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত।
একটি পৃথক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ আত্মহত্যার কারণে মারা যায়—মানে প্রতি ৪৩ সেকেন্ডে একজন। এটি ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার নারীদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি বলে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শরণার্থী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের মধ্যে এই হার আরও বেশি।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ উদ্বেগজনিত রোগে এবং প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ বিষণ্নতায় আক্রান্ত। নারীরা এই দুই ধরনের সমস্যায় তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা না পাওয়া মানসিক রোগ সময়ের সঙ্গে আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানসিক স্বাস্থ্য এখন বৈশ্বিক অক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের দাবি রাখে।