- ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় গত তিন বছরের হিসাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ তিনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। একই তালিকার শীর্ষ ২০-এ স্থান পেয়েছে দেশের ১৩টি সরকারি ও পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি রয়েছে দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি রিসার্চ হাবের প্রকাশিত স্কোপাস ডেটাভিত্তিক এক প্রতিবেদনে দেশের ১৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে গত তিন বছরের গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৭৭ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ৪ হাজার ৩৭৫টি এবং সাইটেশন ৪৩ হাজার ৮৪০টি। আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
৭৫ দশমিক ১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশনা ৩ হাজার ৭৬৩টি, সাইটেশন ৩৮ হাজার ৪৯৪টি। আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। ৫৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বুয়েট। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ৩ হাজার ৩১টি, সাইটেশন ২৫ হাজার ৩৫৭টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ।
তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ২ হাজার ৯৫টি এবং সাইটেশন ৪১ হাজার ৩৮০টি। আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ২ হাজার ১৯২টি, সাইটেশন ২৮ হাজার ৭০টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
ষষ্ঠ ও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রকাশনা ২ হাজার ৮৪টি, সাইটেশন ২৪ হাজার ৮৬০টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রকাশনা ২ হাজার ১১৭টি, সাইটেশন ২৭ হাজার ৪১২টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
অষ্টম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ১ হাজার ৯৬৩টি, সাইটেশন ২৮ হাজার ২০৪টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। নবম অবস্থানে থাকা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রকাশনা ১ হাজার ৮৮৩টি, সাইটেশন ২৪ হাজার ৮২১টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ। দশম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রকাশনা ১ হাজার ৭০২টি, সাইটেশন ১২ হাজার ৫২৯টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
তালিকার ১১তম স্থানে রয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ১ হাজার ৬৩২টি, সাইটেশন ১৩ হাজার ২৭২টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। ১২তম অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রকাশনা ১ হাজার ৫৯৭টি, সাইটেশন ১০ হাজার ৫৩০টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।
১৩তম স্থানে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। তাদের প্রকাশনা ১ হাজার ৫০৭টি, সাইটেশন ৯ হাজার ১০টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৪তম অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর প্রকাশনা ১ হাজার ৩৫১টি, সাইটেশন ২৩ হাজার ৪৬৫টি। আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণের হার ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
১৫তম স্থানে রয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ১ হাজার ৪৫৯টি, সাইটেশন ১৭ হাজার ৯১৬টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৬তম অবস্থানে থাকা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ১ হাজার ৩৭৪টি, সাইটেশন ১৮ হাজার ৬১৯টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১৭তম স্থানে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশনা ১ হাজার ৪০৬টি, সাইটেশন ১৪ হাজার ৩২২টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। ১৮তম অবস্থানে রয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশনা ১ হাজার ৩৪৮টি, সাইটেশন ১২ হাজার ৬৫২টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
শীর্ষ ২০-এর শেষ দুটি অবস্থানে রয়েছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ১ হাজার ১৭৫টি, সাইটেশন ১০ হাজার ১৮৯টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিসিএসআইআরের প্রকাশনা ১ হাজার ২৪৯টি, সাইটেশন ১৩ হাজার ৫৪৩টি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৩৭ শতাংশ।
গত তিন বছরের গবেষণা প্রকাশনার হিসাবের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব সময়ের স্কোপাস-ইনডেক্সড প্রকাশনার তালিকায় কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। অল-টাইম প্রকাশনার হিসাবেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে এ তালিকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বুয়েট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুয়েটের মোট স্কোপাস-ইনডেক্সড প্রকাশনা ১৩ হাজার ৮০৭টি। ৯ হাজার ২৪৫টি প্রকাশনা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। গত তিন বছরের হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অল-টাইম তালিকায় ৮ হাজার ২১টি প্রকাশনা নিয়ে রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
৭ হাজার ৭৭৩টি প্রকাশনা নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর ৬ হাজার ১৪৫টি প্রকাশনা নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সপ্তম ও অষ্টম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রকাশনা যথাক্রমে ৫ হাজার ৮৫২টি ও ৫ হাজার ৮১৩টি।
৫ হাজার ৭০৫টি প্রকাশনা নিয়ে নবম অবস্থানে রয়েছে কুয়েট। আর ৪ হাজার ৯০৯টি প্রকাশনা নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
দুই ধরনের তালিকার তথ্য থেকে দেখা যায়, গত তিন বছরের গবেষণা কার্যক্রমে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে দীর্ঘ সময়ের মোট প্রকাশনা এবং সাম্প্রতিক তিন বছরের গবেষণার পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান এক নয়।