- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন উপকরণ বা ‘লার্নিং টয়েস’ বিতরণ করেন তিনি। এসব উপকরণ ব্যবহার করে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিশুরা কীভাবে শিখছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা (ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি এফএলএন) যাচাই করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিশুরা অনেক বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে যে ধারণা বোঝাতে বেশি সময় লাগে, আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে তা তুলনামূলক সহজে শেখানো সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, প্রতিটি শিশু কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান পদ্ধতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনদক্ষতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিক্ষায় যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যালয় পরিদর্শন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি এবং পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ তৈরি এবং বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।