Friday, October 30, 2026

এআই অবকাঠামোয় ২২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথে অ্যামাজন


ছবিঃ অ্যামাজন (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশিত আয় ও শেয়ারপ্রতি মুনাফা অর্জন করতে পারেনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। তবে কোম্পানিটির ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে একদিকে ক্লাউড ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি বাড়লেও অন্যদিকে নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যামাজন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের মোট বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ২০১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২০২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আয়ের দিক থেকে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

একই সময়ে অ্যামাজনের সম্পূর্ণ মিশ্রিত শেয়ারপ্রতি আয় (ডাইলিউটেড আর্নিংস পার শেয়ার) হয়েছে ১ দশমিক ৮৯ ডলার। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ১ দশমিক ৯৭ ডলার। ফলে আয় ও মুনাফা উভয় ক্ষেত্রেই বাজারের পূর্বাভাসের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কোম্পানিটি।

সামগ্রিক আর্থিক ফলাফলে ঘাটতি থাকলেও অ্যামাজনের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক খবর এসেছে এডব্লিউএস থেকে। তৃতীয় প্রান্তিকে এ বিভাগের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৪৫ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় এডব্লিউএসের আয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। পাশাপাশি বিভাগটির পরিচালন মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যেখানে এডব্লিউএসের পরিচালন মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

এআই প্রযুক্তির বিস্তার, ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ব্যবহারের প্রবণতা এডব্লিউএসের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সামগ্রিক ব্যবসায় প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ক্লাউড বিভাগে এই সাফল্য অ্যামাজনের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যামাজনের আর্থিক প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে নগদ অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য। গত ১২ মাসের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক ৪২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবসা পরিচালনার পর মূলধনী ব্যয় বাদ দিয়ে কোম্পানির হাতে যে নগদ অর্থ থাকার কথা, তার পরিবর্তে ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ১২ মাসে অ্যামাজনের ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ছিল ইতিবাচক ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে নগদ অর্থের অবস্থানে এই বড় পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের কারণেই নগদ অর্থের ওপর এই চাপ তৈরি হয়েছে। ডেটা সেন্টার, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে অ্যামাজন।

চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবেশের আগে ২০২৬ সালে নগদ মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পুরো বছরে এ খাতে তাদের ব্যয় প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশই এআই প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এআই সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার, সার্ভার, চিপ এবং ক্লাউড সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

ব্যয়ের পরিমাণ বোঝাতে চতুর্থ প্রান্তিকের আয়ের পূর্বাভাসও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামাজন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে তাদের নিট বিক্রি ২৪০ থেকে ২৪৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। সাধারণত বড়দিন ও ছুটির মৌসুমে কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় বছরের শেষ প্রান্তিকটি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

তবে পুরো বছরে ২২০ বিলিয়ন ডলারের মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা এবং শেষ প্রান্তিকে ২৪০ থেকে ২৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিক্রির পূর্বাভাস পাশাপাশি রাখলে এআই অবকাঠামোতে অ্যামাজনের বিনিয়োগের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়।

অ্যামাজনের সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল প্রযুক্তি খাতে এআই বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি—দুই দিকই সামনে নিয়ে এসেছে। এডব্লিউএসের আয় ও পরিচালন মুনাফার উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, ক্লাউড ব্যবসায় এআই প্রযুক্তির চাহিদা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

অন্যদিকে বিপুল মূলধনী ব্যয়ের কারণে ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এসব বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় ও মুনাফা অর্জন করতে সময় লাগতে পারে।

এখন অ্যামাজনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেও নগদ অর্থের প্রবাহ ও সামগ্রিক মুনাফার ভারসাম্য বজায় রাখা। ক্লাউড ব্যবসার বর্তমান প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে কতটা আর্থিক সুফল এনে দিতে পারে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী অগ্রযাত্রা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন