Saturday, August 15, 2026

সবজির বাজারেও আগুন, ৯ বছরে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে ২৬৮ শতাংশ


ছবিঃ সবজি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

প্রায় এক দশক আগে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলে যে পরিমাণ সবজি কেনা যেত, এখন একই টাকায় তার অর্ধেকও মেলে না। রাজধানীর বাজারে ২০১৭ সালের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি। এতে মাছ-মাংসের পর এবার সবজিও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজারের বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের জাতীয় গড় খুচরা মূল্য এবং চলতি বছরের শুক্রবারের বাজারদরের তুলনা করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। নয় বছর আগে প্রতি কেজি বেগুনের গড় দাম ছিল ৪০ টাকা ৭১ পয়সা। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে। হিসাবে গোল বেগুনের দাম বেড়েছে প্রায় ২৬৮ শতাংশ।

দাম বাড়ার দিক থেকে পরের অবস্থানে রয়েছে শসা। ২০১৭ সালে প্রতি কেজি শসার গড় দাম ছিল ২৯ টাকা ৭৮ পয়সা। বর্তমানে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ হিসাবে শসার দাম বেড়েছে প্রায় ২৩৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ধুন্দলের দাম ২৯ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, বরবটি ৩৯ টাকা ৩ পয়সা থেকে ৮০-১০০ টাকা এবং করলা ৩৯ টাকা ৭২ পয়সা থেকে ৮০-১০০ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে পটোলের দাম ৩৩ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৩৫ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল ৪৫ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০-৯০ টাকা হয়েছে।

টমেটোর বাজারেও একই চিত্র। ২০১৭ সালে প্রতি কেজি টমেটোর গড় দাম ছিল ৫৯ টাকা ৮৫ পয়সা। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

তবে সবজির দাম সমান হারে বাড়েনি। দেশি আলুর দাম নয় বছরে ২১ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৩০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। পেঁপের দামও ২৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় উঠেছে।

দাম বৃদ্ধির প্রভাব বোঝাতে সাত ধরনের সাধারণ সবজির একটি হিসাবও সামনে এসেছে। ২০১৭ সালে আলু, বেগুন, করলা, শসা, টমেটো, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ—প্রতিটি মাসে চার কেজি করে কিনতে একটি পরিবারের খরচ হতো প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা। একই পরিমাণ সবজি কিনতে এখন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫৪০ টাকা।

অর্থাৎ নয় বছরের ব্যবধানে এই সাত ধরনের সবজির ঝুড়িতেই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪৯০ টাকা। বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০২২ সালে একটি পরিবারের গড় মাসিক খাদ্য ব্যয় ছিল ১৪ হাজার ৩ টাকা। সেই হিসাবে সাত ধরনের সাধারণ সবজি কিনতেই বর্তমানে একটি পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে।

সবজির এই বাড়তি দামের চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। মাছ, মাংস ও ডিমের দাম আগে থেকেই নাগালের বাইরে থাকায় অনেক পরিবার তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার হিসেবে সবজির ওপর নির্ভর করছিল। কিন্তু সেই বাজারেও দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খাদ্য বাজেট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সবজির দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ খরচ বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে। এর সঙ্গে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও সরবরাহ সংকট যুক্ত হওয়ায় কয়েকটি সবজির বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর তুরাগের নতুন বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম এত বেড়েছে যে বাজারের বড় অংশের টাকা এখন সবজি কিনতেই চলে যাচ্ছে। আগে একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কেনা গেলেও এখন বাজেটের কারণে এক-দুই ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হয় না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকার কারণেও দাম আরও বাড়তে পারে।

তার মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ফলে এসব পরিবারকে খাদ্যতালিকা ও পরিমাণে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টি পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তা পর্যায়ে সবজির দামের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন