Wednesday, August 12, 2026

দুদকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত


প্রতীকী ছবিঃ ইসলামী ব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপ, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; দুদকে অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নেওয়ার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করায় ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন অবশ্য ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। ফলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরদিন, অর্থাৎ ২৭ জুলাই, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও ইয়াসীন আলীকে দেওয়া হয়।

এরপর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এস আলম গ্রুপ, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনায় ঋণটি অনুমোদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল বলেও ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালীন সময়ে ঋণ বিতরণ, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়।

এরপর ব্যাংকটির আগের সময়ের ঋণ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকেই সাময়িক বরখাস্ত করার খবর প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের একাংশ বলছে, অভিযোগের বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুদকে করা অভিযোগের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন