Wednesday, August 12, 2026

দেশেই তৈরি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন


ছবিঃ দেশীয় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন যাচ্ছে খামারি পর্যায়ে (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স মোকাবিলায় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত দুটি ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন দুটি বাণিজ্যিক উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভ্যাকসিন দুটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খামারি পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাত দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সংক্রামক রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাই রোগ প্রতিরোধে দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রীর মতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লে একদিকে প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়া একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এর ফলে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে দেশীয় খামারিরা তুলনামূলক সহজে এসব ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান, বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, গবেষক ও বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশীয় গবেষণায় উদ্ভাবিত এই দুই ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাস্তবায়িত হলে প্রাণিসম্পদ খাতের রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন ঝুঁকি কমাতেও তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন