- ১২ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তবে সেসব লক্ষণ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন ফরেনসিক চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রোর আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি হচ্ছিল।
কাসিনেল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যারাডোনার দুই পায়ে পানি জমে যাওয়া, আঙুল ফুলে ওঠা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো বেশ কিছু গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। এসব লক্ষণ সম্ভাব্য জীবনঝুঁকির ইঙ্গিত দিলেও চিকিৎসকেরা সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফরেনসিক চিকিৎসক আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। তাঁর মতে, এই সময়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল।
ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখার সিদ্ধান্তকেও ভুল বলে মন্তব্য করেন কাসিনেল্লি। তাঁর বক্তব্য, ওই সময়কার শারীরিক লক্ষণগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
ময়নাতদন্তের তথ্য তুলে ধরে আদালতে কাসিনেল্লি বলেন, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ম্যারাডোনা শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার। তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুসে তীব্র পানি জমার কথা ময়নাতদন্তে উঠে আসে। মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল ম্যারাডোনার।
ম্যারাডোনার মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যারাডোনার গুরুতর শারীরিক অবস্থার যথাযথ চিকিৎসা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ম্যারাডোনার দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল-সংক্রান্ত জটিলতার প্রভাবেই তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পরও ম্যারাডোনার শেষ সময়ের চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। আদালতে একের পর এক সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এখন নির্ধারণের চেষ্টা চলছে—তাঁর মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা ছিল কি না।
মামলার বিচার কার্যক্রম আগস্টের পরও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।