- ১৫ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এবার এশিয়ান ফুটবলের অন্দরমহলের বিভাজনও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইউরোপের উয়েফা ও উত্তর আমেরিকার কনকাকাফের সঙ্গে যৌথভাবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কিউএফএ)।
কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে কাতারকে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি।
রয়টার্সের হাতে আসা ওই চিঠিতে আল-থানি প্রশ্ন তুলেছেন, এএফসি কীভাবে তার ৪৭ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এ বিষয়ে এএফসির কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি।
চিঠিতে আল-থানি বলেন, কোনো বিষয়ে সম্মিলিত অবস্থান ধরে নেওয়া যায় না; সদস্যদের মতামত আগে জানতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিবৃতি প্রকাশের আগে কিউএফএ কিংবা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো পরামর্শই দেওয়া হয়নি। এমনকি বিবৃতির খসড়াও তাদের কাছে পাঠানো হয়নি।
এএফসি অবশ্য এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হয়নি।
আগামী বছর পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ইনফান্তিনো সম্প্রতি ফিফার ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।
এরপর উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ যৌথভাবে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এবং তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানায়। কিন্তু এশিয়ার সব দেশ যে একই অবস্থানে নেই, কাতারের সাম্প্রতিক অবস্থান তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে কাতার, মরক্কো, মিসর, মৌরিতানিয়াসহ ছয়টি আরব দেশের ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়।
তাদের যৌথ বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর বৈশ্বিকভাবে ফুটবলের প্রসার, বিভিন্ন অঞ্চলে সুযোগ বাড়ানো এবং মানুষ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ফুটবলের ভূমিকা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়।
ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছয় আরব দেশের চারটি ফেডারেশনের প্রধানই ফিফা কাউন্সিলের সদস্য। তারা হলেন কাতারের হামাদ বিন খলিফা আল-থানি, মিসরের হানি আবু রিদা, মরক্কোর ফৌজি লেকজা এবং মৌরিতানিয়ার আহমেদ ইয়াহিয়া।
ফলে ফিফা সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; ফিফার বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও সামনে চলে এসেছে।
বিশেষ করে এশিয়ার ৪৭ সদস্য দেশের পক্ষ থেকে এএফসি কোনো অবস্থান নিলে সেটি সবার মতামতের প্রতিফলন কি না—কাতারের প্রশ্নে এখন সেই বিতর্কই সামনে এসেছে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারের প্রায় ২০ শতাংশ বিক্রি করে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ফিফা সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। এখন কাতারের প্রকাশ্য আপত্তি সেই সংকটে এশিয়ান ফুটবলের ভেতরের বিভক্তিকেও সামনে নিয়ে এলো। আগামী বছর ফিফা সভাপতির নির্বাচনের আগে এই মতপার্থক্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।