- ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা পুনর্দখলের দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার। হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থানও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকারপন্থী বাহিনী। তবে মোচা হাতছাড়া হওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, হুতিদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তারা মোচার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সঙ্গে তাইজ প্রদেশের ধুবাব জেলা এবং বাব আল-মান্দেবের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখলের দাবিও করা হয়েছে।
সরকারপন্থী বাহিনীর ভাষ্য, এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে হুতিদের সরবরাহের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এসব দাবি নাকচ করা হয়েছে। তাইজের উপ-গভর্নর ফুয়াদ সিনান মোচা শহর থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, শহরটি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তিনি সরকারি বাহিনীর মোচা দখলের খবরকে অস্বীকার করেন।
মোচা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আল জাজিরাও জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকারপন্থী বাহিনী।
সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সোমবার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তায় প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাব আল-মান্দেবের আকাশসীমায় বিমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযানে হুতিদের কয়েক শ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবিও করেন তিনি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে লড়াই নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জলপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা মোচা, বাব আল-মান্দেবের আশপাশের কয়েকটি দ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল। এরপর অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়। রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাকি এলাকাগুলো পুনর্দখলে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর একটি স্থাপনা এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেন পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রিয়াদে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে হুতিদের হামলার জবাবে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দেশগুলো। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সৌদি আরবে দ্রুত বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মোচা ও বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে চলমান লড়াইয়ের পাশাপাশি তাইজসহ ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।