- ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদনঃ মোঃ ইয়াসির আজিজ
বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে মঙ্গলবার সকালেও সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল ঢাকা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তালিকায় রাজধানীর বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৩৪। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাস ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের তালিকায় ঢাকার পরই ছিল ভারতের কলকাতা। শহরটির একিউআই ছিল ১৯৮। ১৯১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। আর ভারতের রাজধানী দিল্লির একিউআই ছিল ১৮৬।
ঢাকার বাতাসে এই মুহূর্তে দূষণের প্রধান কারণ অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব পাওয়া গেছে ১৫৯ মাইক্রোগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিত মাত্রার তুলনায় এটি প্রায় ৩২ গুণ বেশি।
রাজধানীর ১২টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঢাকার সামগ্রিক একিউআই নির্ধারণ করেছে আইকিউএয়ার।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সবচেয়ে বেশি দূষিত বাতাস পাওয়া গেছে বারিধারা পার্ক রোডে। সেখানে একিউআই ছিল ২৮৪।
এ ছাড়া বিআইডিএস ও গুলশান লেক পার্ক এলাকায় ২৭৩, বেচারাম দেউড়িতে ২৬৭, সাগুফতা ও গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটারে ২৪৮ এবং দক্ষিণ পল্লবীতে ২৪৭ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে।
গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় একিউআই ছিল ২১৭। আর তিন নম্বর সেক্টরে রেকর্ড করা হয় ২০৫। এসব এলাকার বায়ুর মানও ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল।
ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোর পরিস্থিতিও স্বস্তিদায়ক নয়। সকাল সাড়ে ৮টার হিসাবে গাজীপুরে একিউআই ছিল ২৪৫ এবং টঙ্গিতে ১৮৫।
বায়ুতে পিএম ২.৫-এর মতো অতি ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ বেড়ে গেলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত বাতাসে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়ার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
তবে আইকিউএয়ারের একিউআই একটি নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমানের চিত্র তুলে ধরে। দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া, বাতাসের গতি ও অন্যান্য পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দূষণের মাত্রা এবং শহরগুলোর অবস্থানও বদলে যেতে পারে।