Tuesday, October 6, 2026

হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, নোয়াখালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর


ফাইল ছবিঃ হাম (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী

নোয়াখালীর চাটখিলে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালিয়েছেন তার স্বজনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কয়েক দফায় চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম ফাতেমা হাসান রিমি। সে উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রিমিকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এর কিছু সময় পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে অক্সিজেনের প্রয়োজন দেখা দিলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা উম্মে সালমা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। এ সময় আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) কক্ষসহ কয়েকটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শাহরিন আক্তারের ভাষ্য, রিমি প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল। এর আগে বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। হামের উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শাহরিন আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে স্যালাইন দেওয়ার সময় তার মা তাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় দুধ শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না। শিশুটিকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরে স্বজনদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা কিছু লোকও অংশ নিয়েছেন।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে হাসপাতাল এলাকায় ‘মব’ তৈরি হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, শিশুটিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগ থাকলে তা নিয়ম মেনে থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন