- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব আবারও কারাগারে গেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাঁকে ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাঁর সাজা কার্যকর হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে রাজপাল যাদব নিজের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নেন। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ঋণের বিপরীতে দেওয়া একাধিক চেক অনাদায়ী হওয়ায় মামলা দায়ের হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালে একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের আওতায় রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতেও সেই রায় বহাল থাকে। যদিও মাঝপথে অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে আদালতে একাধিকবার নতুন পরিশোধ পরিকল্পনা জমা দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ বহাল রাখে। সর্বশেষ শুনানিতে নতুন চেক ও সময়সূচি উপস্থাপন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
রাজপাল যাদব ভারতের উত্তর প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে অভিনয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ২০০০ সালে রামগোপাল ভার্মার একটি সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। পরবর্তীতে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তিনি আলাদা জায়গা করে নেন দর্শকমহলে। গত দুই দশকে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বলিউডের পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।
তবে অভিনয়ের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। অল্প বয়সেই প্রথম স্ত্রীকে হারানোর পর একা সন্তান লালন-পালনের সংগ্রাম, আর্থিক সংকট ও আইনি জটিলতা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনপথ সহজ ছিল না।
এর আগেও ঋণসংক্রান্ত মামলায় কিছু সময় কারাবাস করেছিলেন রাজপাল যাদব। সে সময় কারাজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ চাইলে ইতিবাচক থাকতে পারে।
বর্তমানে তাঁর কারাবাস নিয়ে বলিউড অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে এটিকে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।