- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা উডি অ্যালেন দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য পরিচিত। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে তাঁর অনীহার কথা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রে সেই অবস্থান পুরোপুরি প্রযোজ্য ছিল না।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একাধিক ব্যক্তিগত ই–মেইল থেকে জানা গেছে, উডি অ্যালেনের স্ত্রী সুন-ই প্রেভিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও মানব পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে অন্তর্ভুক্ত এসব ই–মেইলে ব্যক্তিগত আলোচনা ছাড়াও পারিবারিক বিষয়ে সহায়তা চাওয়ার নানা বার্তা উঠে এসেছে।
২০১৭ সালের এক ই–মেইলে দেখা যায়, তাঁদের কন্যা বেচেট অ্যালেনের নিউইয়র্কের বার্ড কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রেভিন এপস্টেইনকে কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযোগ রয়েছে, কলেজটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই এই সহায়তা সম্ভব হয়েছিল।
একটি ই–মেইলে প্রেভিন উল্লেখ করেন, বেচেট যেন আগেভাগে ভর্তির বিষয়টি না জানে—এতে সে আরও মনোযোগী হবে বলে তিনি মনে করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বেচেটের সাফল্যের পেছনে এপস্টেইনের অবদান থাকবে বলেও উডি অ্যালেন মন্তব্য করেছিলেন।
তবে বার্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। তাদের বক্তব্য, বেচেট অ্যালেন নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এপস্টেইন নিজের প্রভাব বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রাখতেন।
ফাঁস হওয়া ই–মেইলগুলোতে আরও কিছু বিতর্কিত বক্তব্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে পাঠানো এক বার্তায় প্রেভিন সাবেক মার্কিন রাজনীতিক অ্যান্থনি ওয়াইনারের কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে এক নাবালিকা মেয়ের বিরুদ্ধে দোষ চাপান। এ মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০১৮ সালের আরেকটি ই–মেইলে প্রেভিন অভিনেতা টিমোথি শ্যালামেকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। উডি অ্যালেন পরিচালিত ‘আ রেইনি ডে ইন নিউইয়র্ক’ ছবিতে অভিনয় করা শ্যালামের ছবিটি ভালো সমালোচনা না পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। #মিটু আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছবিটি ব্যাপক বিতর্কে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি।
এই ই–মেইল প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত উডি অ্যালেন বা সুন-ই প্রেভিনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উডি অ্যালেনের প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ফাঁস হওয়া এই নথিগুলো ইতিমধ্যেই হলিউড অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং উডি অ্যালেন পরিবারের অতীত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।