Monday, July 20, 2026

আইনি লড়াইয়ের মাঝেই প্রকাশ কালা হিরণ এর নতুন টিজার, ফের আলোচনায় সালমান খানকে ঘিরে বিতর্ক


ফাইল ছবিঃ সালমান খান (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ছায়া এবার বড় পর্দায়। সেই বিতর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত বলে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’-এর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক টিজার প্রকাশ করেছেন নির্মাতারা। তবে ছবিটি মুক্তির আগেই এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন সালমান খান। তাঁর করা মামলার শুনানি চলমান থাকলেও নির্মাতারা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

নতুন টিজারে আদালতকেন্দ্রিক একটি নাটকীয় দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ‘আয়ান খান’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগের বিচার চলছে। মামলার শুনানির সময় এক সাক্ষী ঘটনার রাতের বিবরণ তুলে ধরেন। টিজারের বিভিন্ন দৃশ্য ও সংলাপে এমন কিছু ইঙ্গিত রয়েছে, যা অনেকের মতে সালমান খানের বহুল আলোচিত মামলার সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় চরিত্রের হাতে সালমান খানের পরিচিত ব্রেসলেটের মতো একটি অলঙ্কার এবং ‘দাবাং’ ও ‘সিকান্দার’ শব্দের ব্যবহার দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও নির্মাতারা সরাসরি কোনো বাস্তব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।

এদিকে ছবিটির শুটিং, প্রচারণা ও মুক্তি স্থগিতের আবেদন জানিয়ে সালমান খান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আবেদনের ওপর দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার মধ্যেই নতুন টিজার প্রকাশ করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা জানিয়েছে, ছবিটি শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এক সাক্ষীর হুমকি পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায়। যদিও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত বা আইনি অবস্থান সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

চলচ্চিত্রটিতে প্রবীণ অভিনেতা গোবিন্দ নামদেবকে বিষ্ণোই সমাজের আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে। ‘আয়ান খান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাশিফ ইকবাল খান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ভারত এস শ্রীনেত।

১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে দুটি সংরক্ষিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম।

রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। ঘটনার পর তাদের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা পরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মামলার তদন্ত শেষে সালমান খানের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০০৬ সালে একটি নিম্ন আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত সেই রায় স্থগিত করেন। পরে ২০১৮ সালে যোধপুরের একটি আদালত আবারও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। একই মামলায় সহ-অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম প্রমাণের অভাবে খালাস পান।

রায় ঘোষণার পর কয়েকদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান সালমান খান। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এই মামলাকে ঘিরেই পরবর্তী সময়ে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে সালমান খানকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এমনকি মুম্বাইয়ে তাঁর বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত হয়।

সব মিলিয়ে, ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত আইনি অধ্যায়কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং ছবির মুক্তি—দুই দিকেই এখন নজর বলিউড অঙ্গনের।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন