Friday, August 21, 2026

শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে নতুন দুই হলিউড ছবি: ‘ইনসিডিয়াস’ ও ‘পাও প্যাট্রোল’


ছবিঃ ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’ ও ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফারদার’–এর পোস্টার (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

ভৌতিক সিনেমার দর্শকদের জন্য ভয় আর রহস্যের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফারদার’। আর শিশু-কিশোর ও পরিবারের দর্শকদের জন্য থাকছে ডাইনোসর, আগ্নেয়গিরি ও রোমাঞ্চকর অভিযানে ভরা অ্যানিমেশন ছবি ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই শুক্রবার থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে ছবি দুটি।

দুটিই জনপ্রিয় হলিউড ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি। ২০২৩ সালে ‘ইনসিডিয়াস: দ্য রেড ডোর’ মুক্তির পর সিরিজটির নতুন সিনেমার অপেক্ষায় ছিলেন ভৌতিক ছবির ভক্তরা। অন্যদিকে ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য মাইটি মুভি’র পর এবার পরিচিত উদ্ধারকারী দলকে দেখা যাবে এক রহস্যময় দ্বীপে, যেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে জীবন্ত ডাইনোসর ও ভয়ংকর সব বিপদ।

‘ইনসিডিয়াস’ সিরিজের ষষ্ঠ সিনেমা ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফারদার’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জ্যাকব চেজ। এতে অভিনয় করেছেন অ্যামেলিয়া ইভ, ব্র্যান্ডন পেরিয়া ও মেইজি রিচার্ডসন-সেলার্স। আগের কিস্তির পরিচিত চরিত্রে ফিরেছেন লিন শে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে জেমা নামের এক তরুণী মা। মেয়েকে নিয়ে শৈশবের বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনি আবিষ্কার করেন, তাঁর মধ্যে রয়েছে এক অস্বাভাবিক ক্ষমতা। ‘দ্য ফারদার’ নামের অতিপ্রাকৃত জগতে প্রবেশ করতে পারেন তিনি। এই অন্ধকার জগতে ঘুরে বেড়ায় মৃত আত্মা ও নানা ভয়ংকর সত্তা।

তবে জেমার ক্ষমতার ভয়াবহ দিক আরও বড়। তিনি শুধু ‘দ্য ফারদার’-এ প্রবেশই করতে পারেন না, সেখানকার কিছু সত্তাকে বাস্তব পৃথিবীতেও নিয়ে আসতে পারেন। অশুভ শক্তিগুলো যখন এই ক্ষমতার কথা জানতে পারে, তখনই জেমা ও তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসে বিপদ।

ক্রমেই বাস্তব জগতের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত জগতের সীমারেখা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে আগের সিনেমাগুলোর মতো শুধু কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি বা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না আতঙ্ক; বরং ‘দ্য ফারদার’-এর অশুভ উপস্থিতি বাস্তব পৃথিবীতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্যদিকে পুরো পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো বিনোদন নিয়ে হাজির হচ্ছে ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’। জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজির এটি তৃতীয় সিনেমা এবং ২০২৩ সালের ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য মাইটি মুভি’র পরবর্তী কিস্তি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ক্যাল ব্রুঙ্কার।

এবার পাও প্যাট্রোল দলের অভিযান তাদের নিয়ে যাবে ডাইনোসর অধ্যুষিত এক রহস্যময় দ্বীপে। ভয়ংকর ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের জাহাজ পথ হারিয়ে দুর্গম ওই দ্বীপে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারে, দ্বীপটিতে এখনো জীবন্ত ডাইনোসরের অস্তিত্ব রয়েছে।

নতুন পরিবেশে দলটির সঙ্গে যোগ দেয় জবী নামের একটি কুকুর। দীর্ঘদিন দ্বীপে বসবাসের কারণে সেখানকার ডাইনোসর ও বিপজ্জনক পরিবেশ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। ফলে অভিযানে পাও প্যাট্রোলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে ওঠে সে।

তবে দ্বীপে শুধু ডাইনোসরের ভয়ই নয়, অপেক্ষা করছে আরও বড় বিপদ। পুরোনো শত্রু মেয়র হামডিঙ্গার দ্বীপের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ দখলের পরিকল্পনা করে। তার খননকাজের ফলে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা একটি আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এরপর শুরু হয় একের পর এক বিপদ। একদিকে ডাইনোসর ও দ্বীপের অন্যান্য প্রাণীকে রক্ষা করা, অন্যদিকে আগ্নেয়গিরির ভয়াবহতা মোকাবিলা—সবকিছুর পাশাপাশি হামডিঙ্গারের পরিকল্পনাও ঠেকাতে হয় পাও প্যাট্রোল দলকে।

ডাইনোসর, আগ্নেয়গিরি ও উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়ে তৈরি ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’ শিশুদের জন্য যেমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দিতে পারে, তেমনি বন্ধুত্ব, সাহস ও বিপদের সময় একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও তুলে ধরে।

একদিকে অন্ধকার, রহস্য আর অতিপ্রাকৃত আতঙ্ক; অন্যদিকে হাসি, অ্যাডভেঞ্চার ও ডাইনোসরের রোমাঞ্চ—দুই ভিন্ন স্বাদের সিনেমা দিয়ে শুক্রবার দর্শকদের জন্য নতুন আয়োজন করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন