- ২২ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ডিসি কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্র গ্রিন ল্যান্টার্নকে ঘিরে নির্মিত টেলিভিশন সিরিজ ‘ল্যান্টার্নস’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে সিরিজটির তৃতীয় পর্ব প্রকাশের প্রথম তিন দিনে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি দর্শক সেটি দেখেছেন। এখন পর্যন্ত এটিই সিরিজটির কোনো এক পর্বের সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তৃতীয় পর্বটি দেখেছেন প্রায় ৭০ লাখ দর্শক।
তবে শুরু থেকেই সিরিজটির দর্শকসংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথম পর্বটি বিশ্বজুড়ে ২ কোটিরও বেশি দর্শক দেখেছেন বলে জানা গেছে। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ‘ল্যান্টার্নস’ এইচবিও ম্যাক্সের জনপ্রিয় সিরিজগুলোর তালিকায় দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে।
সিরিজটির জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে গল্পের ধরন। প্রচলিত সুপারহিরো সিরিজের মতো শুধু মহাকাশ অভিযান, অতিমানবীয় শক্তি কিংবা বড় পরিসরের লড়াইকে কেন্দ্র করে এগোয়নি ‘ল্যান্টার্নস’। বরং গল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ড।
নতুন গ্রিন ল্যান্টার্ন জন স্টুয়ার্ট এবং অভিজ্ঞ ল্যান্টার্ন হ্যাল জর্ডান সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামেন। ফলে সুপারহিরো গল্পের সঙ্গে ক্রাইম থ্রিলার ও রহস্যের উপাদানও যুক্ত হয়েছে। এই ভিন্নধর্মী গল্প বলার ধরনই দর্শকদের কৌতূহল ধরে রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃতীয় পর্বে গল্পের কেন্দ্র চলে যায় জন স্টুয়ার্টের অতীতের দিকে। ছোটবেলা থেকে পরিবারের প্রত্যাশা, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কীভাবে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এই পর্বে।
অ্যারন পিয়ের অভিনীত জন স্টুয়ার্টকে এখানে শুধু একজন শক্তিশালী সুপারহিরো হিসেবে দেখানো হয়নি। চরিত্রটির ব্যক্তিগত ভয়, মানসিক চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সংগ্রামও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে চরিত্রটির সঙ্গে দর্শকের আবেগের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
অন্যদিকে কাইল চ্যান্ডলারের হ্যাল জর্ডান একজন অভিজ্ঞ ল্যান্টার্ন হিসেবে গল্পে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। একদিকে নতুন প্রজন্মের জন স্টুয়ার্ট, অন্যদিকে অভিজ্ঞ হ্যাল জর্ডান—দুই চরিত্রের সম্পর্ক ও পারস্পরিক টানাপোড়েন সিরিজটির নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।
‘ল্যান্টার্নস’-এর আরেকটি আকর্ষণ এর অভিনয়শিল্পীদের দল। অ্যারন পিয়ের ও কাইল চ্যান্ডলারের পাশাপাশি কেলি ম্যাকডোনাল্ড, গ্যারেট ডিলাহান্ট, পূর্ণা জগন্নাথন, জেসন রিটার ও উলরিখ থমসেনের মতো অভিনেতারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
গল্পটি শুধু দুই প্রধান চরিত্রকে ঘিরে আটকে নেই। বিভিন্ন চরিত্রের অতীত, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া রহস্য প্রতিটি পর্বকে পরের পর্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে দর্শকদের মধ্যে পরবর্তী ঘটনা জানার আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।
‘ল্যান্টার্নস’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের আরেকটি কারণ ডিসি স্টুডিওসের নতুন পরিকল্পনা। জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে ডিসির সিনেমা ও টেলিভিশন জগতকে নতুনভাবে সাজানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ‘ল্যান্টার্নস’ সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিরিজটির সঙ্গে ক্রিস মুন্ডি, ড্যামন লিন্ডেলফ ও টম কিংয়ের মতো নির্মাতা ও লেখকদের যুক্ত থাকাও শুরু থেকেই দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
প্রকাশের পর সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে দর্শকসংখ্যায়। ‘ল্যান্টার্নস’ এখন এইচবিও ম্যাক্সের ইতিহাসে বড় সিরিজ উদ্বোধনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি ডিসি স্টুডিওসের কোনো সিরিজের সবচেয়ে বড় প্রিমিয়ার হিসেবেও এটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ‘ল্যান্টার্নস’ শুধু একটি নতুন সুপারহিরো সিরিজ হিসেবে নয়, ডিসির নতুন টেলিভিশন জগতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।