- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত ছোট শহর সাখনিনে সংগঠিত অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক দোকানির প্রতিবাদ ক্রমেই রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর গণআন্দোলনে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা আলি জবেইদাত নামের এক দোকানি চরম হুমকির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত জানুয়ারির এক সোমবার সকালে আলি জবেইদাতের মোবাইলে আসে একটি ভয়ংকর বার্তা। সেখানে লেখা ছিল—কোথায় তিনি যান, কোন পথে চলেন—সব জানা আছে, এবং নির্দেশ না মানলে তাঁকে হত্যা করা হবে। এর আগেও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চারবার সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ হামলায় একটি দোকানে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে ডজনখানেক গুলি ছোড়া হয়।
এই লাগাতার সহিংসতা ও হুমকিই শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করে। কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি দোকানের শাটার নামিয়ে দেন।
আলি জবেইদাতের এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই সাখনিনের বাসিন্দাদের মধ্যে সাড়া ফেলে। একে একে আরও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে শুরু করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনপদগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত প্রতিবাদ।
অনেকের মতে, ইসরায়েলের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই অবহেলার সুযোগ নিয়েই সশস্ত্র গ্যাংগুলো চাঁদাবাজি, হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সাখনিন থেকে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহান্তে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। জেরুজালেমেও বিক্ষোভের কারণে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পাশাপাশি অনেক ইহুদি ইসরায়েলিও অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে এমন ব্যাপক ও সমন্বিত প্রতিবাদ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল।
ইসরায়েলি সংসদের ফিলিস্তিনি সদস্য আইদা তৌমা-সুলেইমান বলেন, “২০২৫ সালে ইসরায়েলে ২৫২ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক খুন হয়েছেন—সংখ্যাটি ভয়াবহ, কিন্তু বাস্তবতা আরও গভীর।”
তিনি আরও বলেন, “এই সংখ্যার আড়ালে রয়েছে হাজারো মানুষ, যারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না, কিংবা নিজেদের আয়ের বড় অংশ অপরাধচক্রকে ‘সুরক্ষা ফি’ হিসেবে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।”