- ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ে নতুন কিছু বিধি অনুমোদন করেছে, যা ওই এলাকায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার পথ খুলে দেবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এমন তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পক্ষ।
রোববার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখলকে বৈধতা দেওয়ার প্রকাশ্য চেষ্টা। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
একই সুরে নিন্দা জানিয়েছে জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে অবৈধভাবে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং অবৈধ বসতিগুলো আরও শক্ত অবস্থান পাবে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস পশ্চিম তীরের জনগণকে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এতদিন যে বিধিনিষেধের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ইহুদি নাগরিকদের জমি কেনা সীমিত ছিল, সেগুলোও শিথিল করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কিছু ধর্মীয় স্থাপনার ব্যবস্থাপনা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করার কথাও রয়েছে এসব ব্যবস্থায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম পশ্চিম তীরের বিরজেইত থেকে জানিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ, যা কার্যত অঞ্চলটি দখল বা সংযুক্ত করার দিকে বড় ধরনের অগ্রযাত্রা।
উল্লেখ্য, গাজা ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পাশাপাশি পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে ফিলিস্তিনিরা। তবে পশ্চিম তীরের বড় অংশ এখনো ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর সীমিত কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বশাসন কার্যকর আছে।