- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের দাফন করতে শনিবার হাজারো শোকাহত মানুষ জড়ো হন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত ৩২ জন মুসল্লি নিহত হন এবং আহত হন আরও প্রায় ১৭০ জন। সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের দাফন কার্যক্রম চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরে পুলিশের অভিযানে দুজন ভাই ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তারা হামলাকারীর সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে।
শুক্রবারের বিস্ফোরণটি ঘটে ইসলামাবাদের উপকণ্ঠের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে। শক্তিশালী ওই বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতরে ও আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করে।
এই হামলাকে ইসলামাবাদে গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী ট্রাকবোমা হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত শহর হিসেবে পরিচিত ইসলামাবাদে এমন হামলা বিরল হলেও, তিন মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা হওয়ায় দেশটির বড় শহরগুলোতে সহিংসতা ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হামলার পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং তাদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি আন্তর্জাতিক মহলের সমবেদনা ও সংহতির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে শান্তি ও ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দাবি করেন, পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এমন প্রমাণ শেয়ার করেছে, যা অনুযায়ী দেশটির ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভারত সমর্থন দিচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে ভারত এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দেয়।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।