- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি ওমানে পৌঁছেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার পরপরই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত লারিজানি ওমানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনায় ওমান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানির সফরে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে ইরান ও ওমানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন—ওমানে এই সফর সাম্প্রতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিতে পারে। গত সপ্তাহে ওমানে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক সংলাপের লক্ষ্য ছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, লারিজানির সফর আঞ্চলিক পরামর্শ কার্যক্রমের অংশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের প্রভাবমুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাঘাইয়ের দাবি, ইসরায়েলই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অযথা সংকট হিসেবে তুলে ধরে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করছে।
পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই অগ্রসর হবে। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা আসছে।
এরই মধ্যে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তবে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার এবং এটি পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না।
সফর শেষে আলি লারিজানির কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন, যেখানে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরালো হচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।